কলকাতার একাধিক এলাকায় কয়েকশো কোটি টাকার বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে এবার কড়া পদক্ষেপ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court on illegal constructions)। রাজাবাজার, বেলেঘাটা, ক্যানাল স্ট্রিট, মানিকতলা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণের অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব CBI-কে দিল আদালত। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ
প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে(Calcutta High Court on illegal constructions)। মামলাকারীর দাবি, কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় পুরসভার অনুমোদন বা স্যাংশান প্ল্যান ছাড়াই বহু নির্মাণ তৈরি হয়েছে। এর পিছনে বড়সড় চক্র কাজ করছে বলেও অভিযোগ। এমনকী কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে এই নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলায় প্রথমে ৪২টি বেআইনি বিল্ডিংয়ের কথা আদালতের সামনে আসে। পরে অভিযোগের পরিধি অন্তত ৫৫টি নির্মাণ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে জানানো হয়। কয়েকটি নির্মাণের মালিকানা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। অভিযোগ, কোথাও সামান্যতম অনুমতিও নেওয়া হয়নি (Calcutta High Court on illegal constructions)। কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
SIT গঠনের নির্দেশ–
এই পরিস্থিতিতে CBI-কে নথিপত্র খতিয়ে দেখে প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুরসভা ও পুলিশের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে CBI বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করতে পারবে। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত (Calcutta High Court on illegal constructions)। কেন পুরসভা স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। প্রয়োজন হলে পুর কমিশনারকে আদালতে তলব করা হতে পারে বলেও জানায় বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, আধিকারিকেরা কাজ করার জন্য বেতন পান, কাজ না করার জন্য নয়।
মামলাকারীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের মার্চে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব CBI-কে দিল হাইকোর্ট।




