ছাত্রাবাস থেকে পড়ুয়াদের জিনিসপত্র সরানো হল, রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে সমস্যায় পড়ুয়ারা
বারাসাত: গত মাসে ছাত্রাবাসকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP) ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই বন্ধ ছিল বারাসাত স্ট্রেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রাবাস। সেই ছাত্রাবাস থেকেই এবার পড়ুয়াদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বের করে দেওয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের আবেদনের ভিত্তিতেই তাঁদের জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে নতুন করে উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশও মোতায়েন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসের সংঘর্ষের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ছাত্রাবাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপর কয়েকজন পড়ুয়া তাঁদের জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। সেই অনুযায়ী তাঁদের ডেকে এনে জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বক্তব্য নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা ছাত্রাবাস খোলা রাখার প্রত্যাশা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলেন। তাঁরা কেউ পিএইচডি, কেউ এমএ, আবার কেউ এমএসসি-র পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব তাঁদের উপর পড়ছে। ছাত্রাবাস থেকে জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে এখন তাঁদের মেসে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, তাঁরা নিজেরা ছাত্রাবাস ছাড়ার জন্য কোনও আবেদন বা অনুমতি চাননি। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি থাকার অন্যতম ভরসা ছিল এই ছাত্রাবাস। ফলে আচমকা ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে যেতে হওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবব্রত মাইতি জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের অনুমতির ভিত্তিতেই তাঁদের জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কনভোকেশনের আগে সাধারণভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে ছাত্রাবাস পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আবার খুলে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য।
ছাত্রাবাস বন্ধ থাকা এবং পড়ুয়াদের সেখান থেকে জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে যেতে হওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব থেকে পড়ুয়াদের পড়াশোনা ও আবাসনের ব্যবস্থা কতটা সুরক্ষিত রাখা যাচ্ছে, এখন সেই প্রশ্নই সামনে।
প্রদীপ দাসের রিপোর্ট। মাতৃভূমি সংবাদ পেপার। বারাসাত




