তৃণমূলে ফেরার জল্পনায় নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন কুণাল ঘোষ (Kunal-Ritabrata Controversy)। সোমবার তিনি দাবি করেন, NCPI-তে থাকা অন্তত ৩০ জন বিধায়ক নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শুধু ফোনেই নয়, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নাকি গোপনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করেছেন।
আরও পড়ুন – Dowry Murder Verdict : ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান, পণের বলি স্ত্রীর খুনে স্বামীর যাবজ্জীবন
কুণালের বক্তব্য, ওই নেতাদের অনেকেই আদর্শের টানে নয়, (Kunal-Ritabrata Controversy) বরং বিভিন্ন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণে দলবদল করেছিলেন। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলেই ফের যোগাযোগ বাড়ছে। যদিও এই মুহূর্তে তাঁদের নাম প্রকাশ করতে নারাজ কুণাল। তাঁর দাবি, প্রকাশ্যে এলে ওই নেতাদের নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, অন্তত ৬ জন সাংসদও তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিজেপি বিরোধী ভোটে জিতে আসার পর তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলেই দাবি তাঁর।
কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক দাবির মধ্যেই কালীঘাটের রাজনৈতিক অন্দরে আরও জোরালো হয়েছে জল্পনা। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য নতুন দলীয় প্রতীক নিয়ে আলোচনা, অন্যদিকে তাঁর বাড়ির অদূরে ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্লিনিকে আচমকাই পৌঁছে যান মন্ত্রী শশী পাঁজা (Kunal-Ritabrata Controversy)। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা ব্যাখ্যা ও জল্পনা। তবে সেই সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে কাকলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শশী পাঁজা তাঁর দীর্ঘদিনের ছাত্রী। ১৯৮৭-৮৮ সাল থেকেই তাঁদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক। সেই সূত্রেই নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং এই সাক্ষাতের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ জুড়ে দেখা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কুণালের দাবির জবাবে কী বললেন ঋতব্রত ?
কুণাল ঘোষের বক্তব্যকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Kunal-Ritabrata Controversy)। পাল্টা কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অন্য দলের নেতাদের নিয়ে এত দাবি করার আগে নিজেদের দলের নেতাদের দিকেই নজর দেওয়া উচিত। সাংসদদের বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে না চাইলেও তিনি জানান, দিল্লির এক সাংসদের সঙ্গে সম্প্রতি তাঁর প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকা মানেই দলবদলের সম্ভাবনা নয়। কুণালের দাবিকে গুরুত্ব না দিয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ঋতব্রত।
শশী পাঁজার ক্লিনিক সফর কি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না মিললেও জল্পনা কিন্তু থামছে না (Kunal-Ritabrata Controversy)। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা খারিজ করলেও, সময় ও ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে কৌতূহল বেড়েছে। একদিকে দলবদলের দাবি, অন্যদিকে কালীঘাটে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নড়াচড়া সবকিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা খুঁজতে শুরু করেছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে বাস্তব আর জল্পনার সীমারেখা কোথায় টানা যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
