বিধানসভায় কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (Ward Delimitation Bill) বিল পাশের পর তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, বিরোধী শিবিরের নেতাদের ডিলিমিটেশন এবং সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে ধারণাই সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। বিলটি মূলত ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আনা হলেও, এর পরবর্তী ধাপে সীমানা, ভোটার তালিকা এবং জনসংখ্যার অনুপাত নির্ধারণের কাজটি সম্পূর্ণভাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও ভূমি দপ্তরের তত্ত্বাবধানে নিয়ম মেনে সম্পন্ন হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন।
আরও পড়ুন- Agnimitra Slams Govt : হাওড়ার মাস্টার প্ল্যান ও বর্জ্য নীতি নিয়ে তোপ অগ্নিমিত্রার
এতদিন ভোট না করানোর অভিযোগ
তৃণমূল জমানায় পরাজিত হওয়ার ভয়ে হাওড়ায় দীর্ঘদিন পুরভোট করানো হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ১৫ বছর ধরে হাওড়াবাসী নাগরিক (Ward Delimitation Bill) মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন বলে জানান তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, দীর্ঘ এই সময়কালে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে, যত্রতত্র বেআইনি নির্মাণ ও পুকুর ভরাট হয়েছে, এবং প্রয়োজনীয় পানীয় জলটুকুও সব বাড়িতে পৌঁছয়নি। জনসংখ্যার তীব্র তারতম্য ও প্রশাসনিক বৈষম্যের কারণেই হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফিরহাদ হাকিমের আপত্তি ও প্রতিক্রিয়া
নীতিগতভাবে ওয়ার্ড বাড়ানোর বিরোধিতায় না গেলেও, পুরো প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি যুক্ত করার দাবি তুলেছেন প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তবে বিধানসভার (Ward Delimitation Bill) অন্দরে এই বিল পাস হওয়ার ফলে দুই প্রধান সিটির প্রশাসনিক মানচিত্র যে বদলাতে চলেছে, তা স্পষ্ট। তিনি যুক্তি দেখান যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিলে সাধারণ মানুষের নানাবিধ সুবিধা হতো এবং পুনর্বিন্যাসের কাজ আরও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভবপর হতো। তা সত্ত্বেও, সংশোধিত এই নতুন আইনের মাধ্যমে কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশনের ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে নাগরিক পরিষেবা আরও দ্রুত ও নিবিড়ভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বিল বিধানসভায় পাস হওয়ার ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে শহরের নাগরিক (Ward Delimitation Bill) পরিষেবা উন্নত করার দাবি এবং অন্যদিকে বিরোধীদের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হয়ে এই আইনি সংশোধনী আগামী দিনে দুই প্রধান শহরের প্রশাসনিক কাঠামোর চেহারা কতটা বদলাতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।






