প্যাকেটে নির্দিষ্ট করা মূল্যের (Fertilizer Price Scam) তোয়াক্কা না করে বস্তাপিছু ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত খাঁকতি উসুল করা হচ্ছে কৃষকদের থেকে। এমনকি জোড়াতালি ‘টেকিং’ ব্যবস্থার জাঁতাকলে ফেলে এক-একটি সারের বস্তা আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে সাধারণ চাষিদের। ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ক ডালিম রায়ের বিস্ফোরক অভিযোগে স্পষ্ট, রাজ্যের কৃষি খাতের ওপর এক ভয়াবহ ও সর্বগ্রাসী অর্থনৈতিক লুঠপাট চালানো হচ্ছে, যার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কৃষকদের আজ ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।
চরম ঔদ্ধত্য ও উদাসীনতা! বিধায়ককে সময় দিতে অস্বীকৃতি মন্ত্রীর
কৃষকদের এই করুণ ও ভয়াবহ সংকটের কথা জানাতে গিয়েও প্রশাসনিক চরম ঔদ্ধত্য ও উদাসীনতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বিরোধীদের। বিধায়ক (Fertilizer Price Scam) অভিযোগ তুলেছেন, সারের এই নজিরবিহীন দুর্নীতি নিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও কৃষিমন্ত্রী তাঁর সাথে দেখা করার বিন্দুমাত্র সৌজন্য দেখাননি। শেষমেশ বিধানসভায় স্পিকারের কাছে আক্ষরিক অর্থেই ক্ষোভ উগরে দিতে বাধ্য হন ক্ষুব্ধ বিধায়ক।
নাটকের অন্তরালে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকা দেওয়ার অপচেষ্টা
কৃষিমন্ত্রীর এই চরম নির্লজ্জ এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাব ঢাকতে পরবর্তীতে তড়িঘড়ি ডালিম রায়কে ডেকে এনে পাশে বসিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের হাস্যকর চেষ্টা চালান পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তবে (Fertilizer Price Scam) কৃষকের ঘাড়ে চাপানো চরম অর্থনৈতিক বোঝা এবং সরকারের কাঠামোগত অযোগ্যতাকে এই ধরনের লোকদেখানো সৌজন্যের আড়ালে ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল।
সামগ্রিকভাবে, সারের বাজারে প্রকাশ্য কালোবাজারি এবং চাষিদের রক্ত চোষার মতো ভয়াবহ সামাজিক সংকট ঢাকতে বিধানসভায় একের পর এক যে রাজনৈতিক নাটক ও দমনপীড়নের নজির দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অযোগ্যতার বলি হয়ে সাধারণ (Fertilizer Price Scam) কৃষক যেখানে নিঃস্ব হতে বসেছে, সেখানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে দায় এড়ানো এবং প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করার এই চক্রান্ত রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতাকেই জনসমক্ষে নগ্নভাবে তুলে ধরেছে।
