নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে (NEET Protest) উত্তাল গোটা দেশ। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে কেরল ও পশ্চিমবঙ্গের রাজপথ সর্বত্রই আছড়ে পড়ছে ক্ষোভের ঢেউ। কলকাতায় শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। একদিকে যেমন সংসদের ভেতরে বিরোধীদের হট্টগোলে মুলতবি হয়ে যাচ্ছে অধিবেশন, অন্যদিকে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার দ্বিতীয় দফার বৈঠক ঘিরে চড়ছে পারদ।
আরও পড়ুন- CM on Birth-Death Certificates : বদলে গেল জন্ম-মৃত্যুর নিয়ম! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
“দেশবিরোধী শক্তিকে উপড়ে ফেলা হবে”, কড়া বার্তা বিরোধী দলনেতার
দেশে ও রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের আবহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থনে শক্ত বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি (NEET Protest) স্পষ্ট জানান,”প্রধানমন্ত্রী যা করছেন, সকলের জন্যই করছেন। বিশেষ করে যুবসমাজের স্বার্থে তিনি যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তার উপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়ে শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে সমস্ত দেশবিরোধী শক্তিকে উপড়ে ফেলা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হস্টেলগুলির গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “এই মাটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের, ঋষি অরবিন্দের মাটি। এখানে কোনো উল্টোপাল্টা কাজ চলবে না, এদের সঠিক সবক শেখানো হবে।”
কড়া আইনি পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় CJP
প্রশ্নফাঁস রুখতে ইতিমধ্যেই কড়া আইনি বিল তৈরিতে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, যা আগামী সপ্তাহেই সংসদে পেশ হতে চলেছে। তবে এতকিছুর (NEET Protest) পরও নিজেদের মূল দাবি অর্থাৎ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় অনড় রয়েছে সিজেপি। সরকারের সাথে আলোচনা চললেও আন্দোলনের ঝাঁজ যে কমছে না, তা সংসদের অচলাবস্থা এবং দেশজুড়ে ছড়ানো বিক্ষোভ থেকেই স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভের আগুন একদিকে যেমন রাজপথ পেরিয়ে দিল্লির সংসদ ভবন থমকে দিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বয়ানে তা এক নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে কেন্দ্রের (NEET Protest) কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও সুরাহার চেষ্টা, আর অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় আন্দোলনকারীদের অবস্থান— এখন দেখার, কনস্টিটিউশন ক্লাবের এই বৈঠক অচলাবস্থা কাটাতে সক্ষম হয়, নাকি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা এই ক্ষোভ আরও দীর্ঘ রূপ নেয়।
