মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে বহুবিবাহের সাংবিধানিক বৈধতা এবার সরাসরি প্রশ্নের মুখে (Polygamy in India)। একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতিকে চ্যালেঞ্জ করে পাঁচ জন আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। এই মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে ধর্ম নির্বিশেষে বহুবিবাহকে নিষিদ্ধ করার জন্য আইন আনা যায় কি না, তা বিবেচনার কথাও জানিয়েছে আদালত। ফলে ফের সামনে এসেছে ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম লিঙ্গসমতার বড় সাংবিধানিক প্রশ্ন।
কী দাবি আবেদনকারীদের?
ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাকিয়া (Polygamy in India) সোমান ও নূরজাহান সাফিয়া নিয়াজ-সহ পাঁচ আবেদনকারী ১৯৩৭ সালের মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্টের ২ নম্বর ধারাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁদের দাবি, বহুবিবাহকে অপরাধের আওতায় আনা এবং মুসলিম বিবাহের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হোক। তাঁদের যুক্তি, বহুবিবাহ নারী-পুরুষের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আগের মামলার রায় কী ছিল?
১৯৯৫ সালের সরলা মুদগল এবং ২০০০ সালের লিলি থমাস মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছিল, প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় শুধু দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করা বেআইনি (Polygamy in India)। তবে ওই মামলাগুলিতে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে বহুবিবাহের সাংবিধানিক বৈধতা সরাসরি পরীক্ষা করা হয়নি। ২০২৩ সালে এই বিষয়টি নিয়ে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় মহিলা কমিশন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের বক্তব্য চাওয়া হয়।
বহুবিবাহ ও নিকাহ হালালার বৈধতা নিয়ে এই মামলা শুধু ব্যক্তিগত আইনের প্রশ্ন নয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা, লিঙ্গসমতা ও সাংবিধানিক অধিকারেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা (Polygamy in India)। আদালতের রায় ভবিষ্যতে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের পরিসর এবং বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের পথ দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে।






