Sonapappu ED raid Kolkata: এপ্রিল ফুলের দিনেই শহরে চাঞ্চল্য, বিধানসভা ভোটের আগে কসবা ও বালিগঞ্জে তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি, সোনা পাপ্পুর বাড়ি ও অফিসে হানা, তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বাড়ছে জল্পনা, নজরে গোটা কলকাতা।
এপ্রিল ফুলের দিন মানেই সাধারণত হাসি-ঠাট্টা আর বোকা বানানোর মজার মুহূর্ত। কিন্তু এদিন সকালেই ঘটল একেবারে অন্যরকম ঘটনা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠল আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা, আর সেই বিশেষ দিনেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হলো ইডির তল্লাশি অভিযান।
বুধবার সকালেই দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকায় ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার, যিনি ‘সোনা পাপ্পু’ নামে পরিচিত, তাঁর বাড়িতে হানা দেয় সংস্থা। হঠাৎ এই তল্লাশি অভিযানে অনেকেই বিস্মিত হন। এলাকায় তিনি নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, এই ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপ করা হয়েছে এবং সেই অর্থের একটি অংশ প্রভাবশালীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : পাঁচ দিনের ধর্না প্রত্যাহার করলেন মমতা, অভিষেকের অনুরোধে কর্মসূচি শেষ
শুধু কসবা নয়, একইদিনে বালিগঞ্জ এলাকার একাধিক অফিস এবং ঠিকানায়ও তল্লাশি চালানো হয়। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি সহ নানা অভিযোগে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই সব অভিযোগের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানা গিয়েছে।
তল্লাশি দলের সদস্যরা তাঁর তারাপদ রোডের বাড়িতেও পৌঁছেছেন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গম্ভীর করে তুলেছে।
সূত্রের খবর, কসবা এবং বালিগঞ্জ এলাকায় একাধিক গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বাড়ি ও সংস্থার দফতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাঁর সংস্থার নাম ‘সান এন্টারপ্রাইজ’, এবং সেই সংস্থার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও তিনি (Sonapappu ED raid Kolkata) সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। কিছুদিন আগে রবীন্দ্র সরোবরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। যদিও সেই সময় তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
বর্তমানে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে এবং পুরো ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এপ্রিল ফুলের দিনের এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় অনেকেই বলছেন, এ যেন বাস্তবের এক ভিন্নরকম চমক—আরও একবার ভোটের আগে তদন্তকারী সংস্থার অতিসক্রিয়তা দেখা গেছে।
