Karantidighi CPM Rally: করণদিঘিতে সিপিএম প্রার্থী হাজি সাহাবুদ্দিনের মনোনয়নে নজিরবিহীন শক্তিপ্রদর্শন। তিনশো গাড়ির মিছিল ঘিরে প্রশ্ন— উত্তরবঙ্গে কি ফের ঘুরছে বামেদের ভাগ্যচাকা?
চৌত্রিশ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসানের পর বাংলার রাজনীতিতে বামেদের উপস্থিতি অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছিল। বহু নির্বাচনে কার্যত শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। কিন্তু সেই রাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝেই করণদিঘি থেকে উঠে এল এক ভিন্ন ছবি, যা নতুন করে উজ্জীবিত করেছে বাম শিবিরকে।
বামফ্রন্ট প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন যে শক্তিপ্রদর্শন দেখা গেল, তা দেখে অনেকেরই প্রথমে মনে হতে পারে যেন কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি দৃশ্য। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ সত্যি।
প্রায় তিনশো গাড়ির বিশাল মিছিল, রাস্তাজুড়ে শয়ে শয়ে সমর্থক, মাথার উপর উড়ছে কাস্তে-হাতুড়ি-তারা পতাকা, আর চারপাশে বাজছে দক্ষিণী সিনেমার গান— এই দৃশ্য যেন স্মরণ করিয়ে দিল এক অন্য সময়ের রাজনীতি।
যে সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে বামেদের আসন প্রায় শূন্যের কোঠায়, সেই সময় করণদিঘির এই শক্তিপ্রদর্শন বামফ্রন্টের কাছে নিছক একটি মনোনয়ন মিছিল নয়— বরং হারানো জমি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই চিত্র অন্তত এটুকু প্রমাণ করছে যে উত্তরবঙ্গের কিছু অঞ্চলে এখনও বামেদের সংগঠন ও সমর্থনের ভিত পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। আর সেই কারণেই করণদিঘির এই মিছিল বাম কর্মী-সমর্থকদের মনে ফের জাগিয়ে তুলছে নতুন আত্মবিশ্বাস, নতুন লড়াইয়ের আশা।
করণদিঘির বামফ্রন্ট প্রার্থী হাজি সাহাবুদ্দিন সিপিএমের পুরনো ও পরিচিত সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শুধু তিনিই নন, তাঁর স্ত্রীও সিপিএমের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
মাধ্যমিক অনুত্তীর্ণ হাজি সাহাবুদ্দিন দুই হাজার তিন সালে করণদিঘি পঞ্চায়েত সমিতিতে সিপিএমের পূর্ত দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। পরে দুই হাজার আট সালে তাঁর স্ত্রী উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদে সিপিএমের সদস্য নির্বাচিত হন। অর্থাৎ পরিবারগতভাবেই তাঁদের রাজনৈতিক শিকড় বাম রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
তবে বামফ্রন্ট ক্ষমতা হারানোর পর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতির মূলস্রোত থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ফলে এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রত্যাবর্তন এবং মনোনয়ন ঘিরে বিপুল জনসমাগম স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে তাঁকে।
উল্লেখ্য, দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে করণদিঘি আসনে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল প্রার্থী গৌতম পাল প্রায় সাঁইত্রিশ হাজার ভোটে জয় পান। সেই নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি, আর বামফ্রন্ট পিছিয়ে পড়েছিল অনেকটাই।
এখন দেখার, করণদিঘিতে বামেদের এই নতুন শক্তিপ্রদর্শন এবং হাজি সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবহ শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। মাঠের ছবি কি সত্যিই বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি তা কেবল মনোনয়ন দিনের উত্তেজনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে— সেই উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলেই।
