পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে সি ভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই রাজ্যপালকে সরানো হয়েছে এবং এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে।ধর্মতলায় চলা অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার পরই মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাবেন। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার আলিপুরে গিয়ে সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
সূত্রের খবর, আপাতত আলিপুরের একটি অতিথিশালাতেই রয়েছেন বিদায়ী রাজ্যপাল।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দীর্ঘদিন প্রশাসনিক কাজের সূত্রে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল, তাই সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে একইসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যপালের পদত্যাগের সময়কাল নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, দায়িত্বকাল শেষ হতে এখনও প্রায় দেড় বছর বাকি ছিল। সেই অবস্থায় হঠাৎ পদত্যাগের ঘটনা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না।মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাই তিনি বিষয়টিকে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন না।এদিকে রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এখনও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেননি। জানা গেছে, রাজ্যে এসে শপথ গ্রহণের পরই তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে বিদায়ী রাজ্যপাল এখনও আলিপুরের অতিথিশালায় অবস্থান করছেন, তা নিয়েও কিছু মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ সৌজন্য ও শিষ্টাচারের বিষয়।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল আনন্দ বোসের। সেই উদ্দেশ্যে তাঁর যাত্রার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় তাঁকে দিল্লিতে ফিরে যেতে হয় বলে জানা গেছে।অন্যদিকে নিজের পদত্যাগ প্রসঙ্গে আনন্দ বোস জানিয়েছেন, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ।সব মিলিয়ে রাজ্যপালের এই ইস্তফা এবং নতুন নিয়োগকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
