খোয়াজা আসিফ, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী র সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় এক জনসভা থেকে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় ঘটনার পরেও দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব রয়েছেন এবং কেন তিনি কলকাতায় হামলার প্রসঙ্গ তুলেছেন।
জনসভায় বক্তব্যের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নদিয়ার শাড়ি পরে এই সভায় উপস্থিত হয়েছেন, যা এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি তাঁর সংযোগ ও সম্মানকে প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, দুই হাজার পঁচিশ সালের উপনির্বাচনে কালীগঞ্জ থেকে তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদের জয়ের পর বিজয় মিছিল চলাকালীন সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় নয় বছরের শিশু তামান্না খাতুনের মৃত্যু হয়, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। সেই প্রেক্ষাপটেই আয়োজিত এই জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
তিনি বেতুয়াডহরির জিএসএম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সভা থেকে আরেকটি মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি দাবি করেন, মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে রিংকু তরফদার (BLO) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর রেখে যাওয়া আত্মহত্যা পত্রে কমিশনকে দায়ী করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মালদার ঘটনার সময় তিনি কোথায় ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই ধরনের হামলাকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না।
এছাড়াও, কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের তামিলনাড়ুতে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে বদলি নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এর পেছনে অভ্যন্তরীণ সমঝোতা এবং বাইরের প্রভাব কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাজ্যে বাইরে থেকে অর্থ আসছে এবং সেই সঙ্গে মাদকদ্রব্য ও অস্ত্রও ঢুকছে, যা উদ্বেগজনক। এই প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যোগসাজশের অভিযোগও তোলেন।
মহিলাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাঁরা যেন সতর্ক থাকেন এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে মহিলাদের কোনো অসুবিধা হবে না এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু থাকবে। এছাড়া, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, যদি কোনো যন্ত্র বিকল হয়ে যায়, তাহলে নতুন যন্ত্র এনে পুনরায় ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, এই জনসভা থেকে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী, যা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
