অনশন অব্যাহত রেখেই নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk Hunger Strike)। আজ তাঁর অনশনের ১৯তম দিন। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে ১৮তম দিনে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদনও করা হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতেই অনশন মঞ্চ থেকে নতুন বার্তা দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন – Midnight Crisis : মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হাইভোল্টেজ বৈঠক
ভিডিও বার্তায় আবেগঘন সুরেই সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখলেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk Hunger Strike)। তিনি জানান, হাজার হাজার মানুষ তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেছেন। অনেকে ভালোবেসে বোঝাচ্ছেন, আবার কেউ কঠোর ভাষায় খাবার খেতে বলছেন। এমনকি আদালতে আবেদন করে সরকার যেন তাঁকে জোর করে খাবার খাওয়ায়, সেই চেষ্টাও হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এখন অনশন ভেঙে দিলে সরকারের কাছে ভুল বার্তা যাবে যে আন্দোলনের দাবির জবাব না দিলেও চলবে।
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কী জানালেন সোনম ওয়াংচুক?
সোনম ওয়াংচুক জানান, টানা ১৮ দিন অনশনে থাকার পরও তাঁর শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক রয়েছে (Sonam Wangchuk Hunger Strike)। নিয়মিত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে তাঁকে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। সম্প্রতি করা ইসিজিতেও কোনও উদ্বেগজনক সমস্যা ধরা পড়েনি বলে তিনি জানান।
যদিও দীর্ঘ অনশনের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে পেশি ক্ষয় হচ্ছে, তবুও তাঁর মনোবল ও মানসিক শক্তি অটুট রয়েছে (Sonam Wangchuk Hunger Strike)। তাই তিনি মনে করছেন, বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতিতে আরও কয়েক দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর অবস্থা এতটা সংকটজনক নয় যে আগামী দু’-চার দিনের মধ্যেই প্রাণসংকট তৈরি হবে।
২০ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে কী আহ্বান জানালেন সোনম ওয়াংচুক?
দেশবাসীর উদ্দেশে সোনম ওয়াংচুক বলেন, শুধু তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করলেই চলবে না, বরং আন্দোলনের দাবিকে শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন (Sonam Wangchuk Hunger Strike)। সেই কারণেই তিনি ২০ জুলাই একটি বৃহৎ জমায়েতের ডাক দিয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ করে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি আন্দোলনের কর্মসূচি নয়, বরং গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার এবং জনঅংশগ্রহণ সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাঁর মতে, ওই দিনের কর্মসূচি ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে এবং সেখানে উপস্থিত তরুণ-তরুণীরা ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
