তৃণমূল কংগ্রেসে আড়াআড়ি (Abhishek Blasts Demolition) ফাটল ধরেছে, যা এখন প্রকাশ্যে। দলের একের পর এক বিধায়ক ও নেতানেত্রী নাম লেখাচ্ছেন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে। প্রবীণ নেতাদের অনেকেই দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য সরাসরি দায় চাপিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাড়ে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৬৫ জন বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং ২০ জন সাংসদ নাম লিখিয়েছেন এনসিপিআই (NCPI) দলে। এই চরম রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই শুক্রবার মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষোভ ও চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বলেন, “যাঁরা দল ছেড়ে আজ আমাকে গালিগালাজ বা দোষারোপ করছেন, তাঁদের আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। তাঁরা যেন দিদি’র কাছে ফিরে আসেন। যদি তাঁরা তা করেন, তবে আমি এক ঘণ্টার মধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করব।”
আরও পড়ুন- Haldia Train Derails : হলদিয়ায় ফের রেল দুর্ঘটনা, লাইনচ্যুত মালগাড়ির ৪টি বগি
কেন্দ্রে এজেন্সির ভয় ও বিজেপির সঙ্গে আঁতাত, দলত্যাগীদের নিশানা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের
বিদ্রোহী শিবিরের নেতাদের এই দলবদলকে স্রেফ রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই বলে মানতে নারাজ অভিষেক। তাঁর দাবি, এই বিদ্রোহের নেপথ্যে রয়েছে গভীর (Abhishek Blasts Demolition) কোনো সমঝোতা। ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক আরও যোগ করেন, “বিদ্রোহীরা আসলে আর ফিরে আসবেন না। তাঁরা বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করেছেন।” দলত্যাগীদের আসল কৌশল ফাঁস করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দল ছেড়ে বিদ্রোহী শিবির বা বিজেপিতে যোগ দেওয়া, এবং তারপর ইডি (ED), সিবিআই (CBI) সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনি সুরক্ষা কবচ নেওয়া এটাই এখন তাঁদের মূল রণকৌশল। আর এই পুরো প্রক্রিয়াকে আড়াল করতেই তাঁর বিরুদ্ধে অনবরত দোষারোপ ও গালিগালাজ করা হচ্ছে।
কার্যালয় ভাঙা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
দলীয় কোন্দলের এই আবহেই শনিবার এক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলা। সেখানে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয়ের একটি অংশ বেআইনি ঘোষণা করে বুলডোজার (Abhishek Blasts Demolition) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুরের পর ওই কার্যালয়ে জোর কদমে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অফিসের সেই বিতর্কিত অংশে থাকা বিভিন্ন নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় বড় ট্রাঙ্ক আনা হয়। পুলিশের দাবি, এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এর আগে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
যদিও প্রশাসনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা দাবি, এই অফিসের সমস্ত বৈধ নথিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। প্রশাসনের (Abhishek Blasts Demolition) নোটিস প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত ১৫ তারিখ এই মামলার শুনানি ছিল এবং তাঁদের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিতও হয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের কপি দিতে পারেনি। জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি অভিষেক অভিযোগ করেন, “বিজেপির নেতারা ঝান্ডা নিয়ে, মাথায় ফেট্টি বেঁধে পার্টি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে।” এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতির ওএসডি (OSD)কে ইমেল করা হয়েছে এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হবে। ভিডিও ফুটেজে যাঁদের তাণ্ডব চালাতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ।
