পার্ক সার্কাসে ফুটপাথ জুড়ে বেআইনি পার্কিং দেখে (Agnimitra Paul) ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কলকাতার পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ একটি মলের সামনে দাঁড়িয়েই তিনি ট্র্যাফিক পুলিশের এক অফিসারকে কড়া ভাষায় প্রশ্ন করেন, “আপনারা কী করেন? এগুলো দেখতে পান না? আমাকে কেন দেখতে হচ্ছে?” জবাবে ওই অফিসার জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে ছিল এবং তিনি অবিলম্বে গাড়িগুলি সরানোর ব্যবস্থা করছেন। এরপর পুরমন্ত্রীর নির্দেশে বেআইনি ভাবে রাখা গাড়িগুলির চাকায় কাঁটা লাগানো এবং মালিকদের বিরুদ্ধে জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
এই ঘটনার পরেই কলকাতা পুরসভার অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে (Agnimitra Paul)। কারণ, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বেআইনি পার্কিং রুখতে চালু করা হয়েছিল ‘কেএমসি এমপ্লয়ি মোবাইল অ্যাপ’। সেই সময় জানানো হয়েছিল, গাড়ির চাকায় কাঁটা লাগানোর বদলে জিপিএস-সহ ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করা হবে এবং গাড়ির মালিককে মোবাইলে জরিমানার নোটিস পাঠানো হবে। তাই পুরমন্ত্রীর সামনেই পুরনো পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেওয়ায় অনেক আধিকারিকের প্রশ্ন, ওই অ্যাপ কি এখন আর কার্যকর নেই? যদিও এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও কার পার্কিং বিভাগের শীর্ষ কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
‘কেএমসি এমপ্লয়ি মোবাইল অ্যাপ’-এর ভূমিকা কী?
এই অ্যাপের মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার পরিদর্শকরা বেআইনি ভাবে পার্ক করা গাড়ির ছবি তুলে খুব সহজেই তা সিস্টেমে আপলোড করতে পারতেন (Agnimitra Paul)। অ্যাপটি পরিবহণ দপ্তর এবং কলকাতা পুলিশের সঙ্গেও সংযুক্ত ছিল, ফলে তথ্য আদান-প্রদান দ্রুত সম্ভব হত। গাড়ি চিহ্নিত হওয়ার পর মালিকের মোবাইলে জরিমানার বার্তা পাঠানো হত এবং সাত দিনের মধ্যে অনলাইনে বা পুরসভায় গিয়ে সেই জরিমানা জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। এর ফলে চাকায় কাঁটা লাগানোর মতো পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছিল পুরসভা।
ফুটপাথে বেআইনি পার্কিং নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বার্তা কী?
পুরমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফুটপাথ গাড়ি রাখার জায়গা নয়, এটি শুধুমাত্র পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য(Agnimitra Paul)। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন গাড়ির মালিক এ বারের মতো রেহাই চাইলেও তিনি সেই আবেদন নাকচ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, আইন ভাঙার ক্ষেত্রে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি ওই এলাকায় হঠাৎ পরিদর্শনে আসবেন এবং বেআইনি পার্কিং সত্যিই বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিজেই খতিয়ে দেখবেন (Agnimitra Paul)। উল্লেখ্য, পুরসভার পূর্বতন নীতি অনুযায়ী রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বেআইনি পার্কিং দেখভালের দায়িত্ব পুরসভার, আর সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সেই দায়িত্ব কলকাতা পুলিশের ওপর বর্তায়।
