১২ হাজার আসনের স্টেডিয়ামে ২০ হাজারের বেশি সমর্থকের সম্ভাবনা, পরীক্ষার মধ্যেই ম্যাচ—চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের
বারাসাত: দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসাতে ফের বসতে চলেছে কলকাতা ময়দানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ডার্বি। আগামীকাল, সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর, বারাসাত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা চরমে। তবে ডার্বির উত্তেজনার পাশাপাশি নিরাপত্তা, অতিরিক্ত ভিড় এবং যানজট—এই তিনটি বিষয়ই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডার্বি ম্যাচকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে এবং ম্যাচ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সোমবার স্কুল, কলেজ, অফিস ও আদালত চত্বরে অবস্থিত স্টেডিয়ামে ম্যাচ হওয়ায় বারাসাত শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক যানজটের আশঙ্কা করছেন শহরবাসী।
বিশেষ করে স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বারাসাত পিরিচরণ গভর্নমেন্ট স্কুল, কালীকৃষ্ণ গার্লস স্কুল-সহ আরও দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজ। বর্তমানে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে অর্ধবার্ষিক ও সেমিস্টারের পরীক্ষা চলছে। ডার্বি উপলক্ষে মাইকিং, বিভিন্ন ঘোষণা ও নিরাপত্তাজনিত সতর্কীকরণ চললে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষায় সমস্যা হতে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

১২ হাজার আসন, সমর্থক ২০ হাজারের বেশি?
বারাসাত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে দর্শকাসনের ধারণক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার। কিন্তু ডার্বির গুরুত্ব এবং ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের বিপুল সমর্থকসংখ্যার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের অনুমান, ২০ হাজারেরও বেশি সমর্থক বারাসাতে হাজির হতে পারেন। ফলে নির্ধারিত দর্শকসংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত সমর্থকদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, টিকিট এবং মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কোনও সামগ্রী নিয়ে দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। দর্শকদের সুবিধার্থে স্টেডিয়ামের ভিতরেই পানীয় জল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বারাসাত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার জে. মার্সি।
পার্কিং ও যান নিয়ন্ত্রণেও কড়া ব্যবস্থা
ডার্বি দেখতে আসা ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য কাচারি মাঠ এবং কিশলয় হোমের মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ৩টে থেকে বারাসাতের কেএনসি রোডে সাধারণ মানুষের গাড়ি নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ফলে ম্যাচের আগে থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বারাসাতে ডার্বি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। একদিকে প্রিয় দলের জয় দেখার অপেক্ষায় হাজার হাজার সমর্থক, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের স্বাভাবিক জনজীবন সচল রাখা—সব মিলিয়ে প্রশাসনের সামনে বড় পরীক্ষা। এখন দেখার, সমস্ত প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় বহু প্রতীক্ষিত বারাসাতের এই ডার্বি।






