বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পরিবারের একটি সম্পত্তি। এই প্রেক্ষিতে কলকাতা পুরসভা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একটি নোটিস জারি করে। নোটিসে তাঁকে কলকাতা পুরসভার বরো-৯ অফিসে নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট নির্মাণের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুরসভা সূত্রে খবর, কালিঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোড এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট সংলগ্ন একটি সম্পত্তির নির্মাণের বৈধতা, অনুমোদিত (Abhishek Banerjee) নকশা এবং গঠনগত ছাড়পত্র সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই নথি খতিয়ে দেখতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
যদিও নির্ধারিত দিনে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বরো-৯ অফিসে উপস্থিত হননি, তাঁর পরিবর্তে একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের দফতরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন (Abhishek Banerjee)। পুরসভার আধিকারিকরা সেই নথিগুলি গ্রহণ করে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগেও কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে গিয়ে পুরসভার কর্মীরা নির্মাণ সংক্রান্ত প্রাথমিক মাপজোক করেছিলেন। পাশাপাশি ওই বাড়ির সদস্যদের কাছেও নোটিস পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এবার বরো অফিসে নথি জমা দেওয়ার পর্ব সম্পন্ন হল।
অভিষেক ৮টি এফআইআর মামলায় হাইকোর্টে কী পর্যবেক্ষণ করল আদালত?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৮টি এফআইআর-সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবারও কোনও চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি হাইকোর্ট (Abhishek Banerjee)। ফলে অন্তত আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাঁর রক্ষাকবচের আবেদন ঝুলেই থাকল। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্টভাবে জানান, এই মামলা দীর্ঘদিন ধরেই বিচারাধীন রয়েছে এবং রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে আদালতের পক্ষে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া আটটি এফআইআরকে কীভাবে একটি মামলার মাধ্যমে একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করা যায়, কারণ প্রতিটি এফআইআর-এর অভিযোগ ও ঘটনার ভিত্তি আলাদা।
আদালতে অভিষেকের আইনজীবীর আবেদন ও বিচারপতির নির্দেশ কী ছিল?
শুনানির শুরুতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতের কাছে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের আবেদন জানান (Abhishek Banerjee)। তবে সেই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন রাজ্যের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, এই মামলায় আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও নতুন পুলিশি পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠলে তা আদালতের নজরে আনা যেতে পারে। তিনি অভিষেকের আইনজীবীদের পরামর্শ দেন, ভবিষ্যতে যদি তদন্তকারী সংস্থা বা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে অবিলম্বে সেই বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেন। পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের।
