Adhir Ranjan Chowdhury Berhampore Clash: বহরমপুরে প্রচারে গিয়ে বাধার মুখে পড়লেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা এবং তৃণমূল-কংগ্রেসের অভিযোগে সরগরম এলাকা, ভোটের আগে এই ঘটনায় বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক নজরদারি।
বিধানসভা ভোটের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর। একসময়ের কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই এলাকায় প্রচারে নেমেই বাধার মুখে পড়লেন হেভিওয়েট নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার জয়ের সাক্ষী এই মাটিতেই এবার তাঁকে শুনতে হল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ভোটের আগে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে আইন-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে। একদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ—তাদের প্রার্থীর প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা দাবি—বাইরের লোক এনে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা হয়েছে। সব মিলিয়ে উত্তপ্ত বহরমপুর এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্র এই প্রতিবেদনে জানুন—ঠিক কী ঘটেছিল, অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা, এবং এই ঘটনায় দুই পক্ষের অবস্থান।বিন্দুতে।
সূত্রের খবর, অধীর রঞ্জন চৌধুরী সমর্থকদের নিয়ে বহরমপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু ওই এলাকায় প্রবেশ করতেই তাঁকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয় তৃণমূল সমর্থকদের তরফে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলা হয়। পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ স্লোগানেও সরব হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়। যদিও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর মেলেনি, তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় দুই দলের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের দাবি, অধীর চৌধুরী বাইরে থেকে লোক এনে এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় মানুষ তার প্রতিবাদ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের প্রার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রচারে বাধা দিয়ে ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। দুই পক্ষই ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক স্তরেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী বহরমপুরের রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর একাধিকবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করেন। মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
কেন্দ্রীয় স্তরেও তিনি দায়িত্ব সামলেছেন—রেলের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীকালে লোকসভায় কংগ্রেসের বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে। এরপরই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন।
ভোটের মুখে এই ধরনের ঘটনা (Adhir Ranjan Chowdhury Berhampore Clash) স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। বহরমপুর, যা দীর্ঘদিন অধীর চৌধুরীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এমন বাধা রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল স্বাধীনভাবে প্রচার ও ভোটাধিকার প্রয়োগ। সেই জায়গায় যদি বাধা তৈরি হয়, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের কারণ। এখন নজর প্রশাসনের দিকে—এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং ভোটের আগে পরিবেশ কতটা স্বাভাবিক রাখা যায়, সেটাই হবে আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।
#AdhirRanjanChowdhury #BerhamporeClash #BengalPolitics #CongressVsTMC #ElectionCampaign #MurshidabadNews #PoliticalTension #GoBackSlogan #WestBengalElection
