দীর্ঘদিনের আন্দোলনের জেরে অবশেষে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan News)। শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা করেন। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাবেন প্রহ্লাদ যোশী। ইস্তফা দেওয়ার পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার মূল শক্তি হল যুবসমাজ। তাঁদের মতামত, দাবি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে তিনি সর্বদা গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।
আরও পড়ুন – Har Ghar Tiranga : রাজ্যে ৯ থেকে ১৭ আগস্ট ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান, ঘরে ঘরে উড়বে তেরঙ্গা
যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া ছাত্রদের আন্দোলন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলার পর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে (Dharmendra Pradhan News)। শিক্ষাব্যবস্থা ও বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ইস্তফা দেওয়ায় সেই আন্দোলনের একটি বড় অধ্যায়ের ইতি ঘটলেও, রাজনৈতিক মহলে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেরই প্রশ্ন, যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতেই হত, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি হল কেন?
প্রথম দিনেই কি ইস্তফায় রাজি ছিলেন ধর্মেন্দ্র?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিজেপি নেতা তথা মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয় দাবি করেছেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রথম দিনেই ধর্মেন্দ্র প্রধান দলের সভাপতিকে জানিয়েছিলেন (Dharmendra Pradhan News) যে, দল যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।
কিন্তু সেই সময় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। বিজয়বর্গীয়ের দাবি, পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে থাকায় এবং বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত দলই তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। তাই এই ইস্তফা কোনও হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘ আলোচনার পর নেওয়া একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বলেই তিনি দাবি করেন।
ইস্তফা নিয়ে আর কী বললেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়?
কৈলাস বিজয়বর্গীয় আরও বলেন, বহু বছর ধরে তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan News) চেনেন এবং তাঁকে অত্যন্ত সৎ, দায়িত্বশীল ও দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতা বলেই মনে করেন। তাঁর মতে, দলের নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন, তা একজন অনুগত দলীয় কর্মীর পরিচয় বহন করে।
একই সঙ্গে এই ইস্যুতে বিরোধীদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বিজয়বর্গীয়ের দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ফলে বিদেশি শক্তির মদতে দেশে অস্থিরতা তৈরির যে চক্রান্ত করা হচ্ছিল, তা সফল হতে পারেনি এবং সেই প্রচেষ্টা কার্যত ভেস্তে গিয়েছে।
