কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে নিরাপত্তা ও লক্ষ লক্ষ যাত্রীর জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে চলেছে বিমানবন্দর সংলগ্ন প্রাচীন বাঁকড়া মসজিদটি স্থানান্তরের মাধ্যমে (Kolkata Airport Security Tightens)। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারের দাবি অনুযায়ী, বিমানের নিরাপদ ওঠানামা এবং রানওয়ের নিশ্চিত সুরক্ষার স্বার্থেই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংবেদনশীল এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে কোনো রকম বিশেষ পাস ছাড়াই শুধুমাত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই মসজিদটিকে বিমানবন্দরের বর্তমান সীমানার বাইরে একটি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যার জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও পরিকাঠামোগত সাহায্য দেবে প্রশাসন।
আরও পড়ুন – Kolkata Metro TBM Durga: ২০ মিনিটেই ভিক্টোরিয়ায়, ইতিহাস গড়ল টিবিএম ‘দুর্গা’!
আইন নাকি তোষণ রাজনীতি?
বিগত বাম আমলের ৩৪ বছর এবং তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের রাজত্বে শুধুমাত্র ভোটব্যাংকের তোষণ রাজনীতির কারণেই এই স্পর্শকাতর সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করা হয়নি বলে তীব্র আক্রমণ জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। যেখানে প্রতিনিয়ত রাজ্যে ভুয়ো পরিচয়পত্রের হদিশ মিলছে, সেখানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের ভেতরে এমন শিথিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না বলেই এই কড়া সিদ্ধান্ত (Kolkata Airport Security Tightens)। বর্তমানে রাস্তা সংস্কারের কাজের জন্য সাময়িকভাবে ওই মসজিদে প্রার্থনা বন্ধ রয়েছে। মসজিদ কমিটিকে রানওয়ের বাইরে বিকল্প জমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে, যেখানে সরকারি সহায়তায় নতুনভাবে মসজিদটি গড়ে তোলা হবে।
নিরাপত্তায় আপসহীন প্রশাসন
বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যে ভুয়ো পরিচয়পত্রের রমরমা কারবারের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আর কোনো রকম আপস করতে রাজি নয় প্রশাসন। বর্তমানে ওই এলাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজের জন্য সাময়িকভাবে নমাজ পড়া বন্ধ রয়েছে (Kolkata Airport Security Tightens)। তবে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও ইতিবাচক করতে প্রশাসন সংবেদনশীল মনোভাবও দেখিয়েছে। মসজিদ কমিটিকে রানওয়ের বাইরে উপযুক্ত বিকল্প জমি চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা ও নতুন মসজিদ পুনর্নির্মাণে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে রাজ্য সরকার।
জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে নেওয়া এই সাহসী পদক্ষেপ কলকাতা বিমানবন্দরের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। রাজনৈতিক অনীহার অবসান ঘটিয়ে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও বিমান নিরাপত্তার মধ্যে একটি সুষ্ঠু ভারসাম্য বজায় রাখার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত (Kolkata Airport Security Tightens)।
