বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করল নবান্ন। আইন দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন এই দফতরের দায়িত্বে ছিলেন মন্ত্রী মলয় ঘটক। তবে সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি।ফলে আপাতত রাজ্যের আইন সংক্রান্ত সমস্ত প্রশাসনিক কাজ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানেই চলবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর আগে কয়েকদিন আগেই ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বও নিজের হাতে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছিল, তার পরেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ বিশ্বাস। এরপরই ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বও নিজের হাতে নেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে বর্তমানে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর সরাসরি তাঁর অধীনেই রয়েছে।এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন তিনি। একাধিক সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্নও তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কও শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের এক বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রসিকতার সুরে বিষয়টি উল্লেখ করতে দেখা যায়। তাঁর মন্তব্যে বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকদের মধ্যেও হাসির রোল ওঠে।সব মিলিয়ে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের প্রশাসন ও রাজনীতি দুই ক্ষেত্রেই চাপানউতোর বাড়ছে। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব চলে আসা নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে।
