প্রায় দু’বছর আগের আরজি কর আন্দোলন ঘিরে হামলার (R.G. Kar Protest Attack) ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি কৃষ্ণনগর পুলিশের। শুক্রবার বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং আরও এক ব্যক্তিকে। ধৃতরা হলেন কৃষ্ণনগর পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পলাশ দাস, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রকাশ দাস এবং বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন – Bidhannagar Sports City : বিধাননগর হবে দেশের সেরা ‘স্পোর্টস সিটি’
আদালতে তোলা হলে কৃষ্ণনগর আদালত তিন অভিযুক্তকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় (R.G. Kar Protest Attack)। একইসঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত দাস ভাইদের গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট (R.G. Kar Protest Attack)। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে কৃষ্ণনগরে বিজেপির একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। অভিযোগকারী বিজেপি কর্মী প্রাণকৃষ্ণ দাসের দাবি, সেই সময় পলাশ ও প্রকাশ দাসের নেতৃত্বে প্রায় এক ডজন তৃণমূল সমর্থক লাঠি, লোহার রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়।
অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়, যার জেরে একাধিক কর্মী গুরুতর জখম হন (R.G. Kar Protest Attack)। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নদিয়ার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এই হামলাকে পরিকল্পিত বলে দাবি করে আসছে বিজেপি।
হামলার ঘটনায় কী কী বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে বিজেপি?
অভিযোগকারী প্রাণকৃষ্ণ দাসের দাবি, হামলাকারীরা শুধু মারধরেই থেমে থাকেনি। লাঠি, লোহার রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভকারীদের উপর চড়াও হয়ে মিছিল বন্ধ না করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় (R.G. Kar Protest Attack)। বিজেপির অভিযোগ, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলন ভেঙে দেওয়া এবং প্রতিবাদীদের আতঙ্কিত করা।
ঘটনায় বিজেপির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা সে সময় দলের কৃষক মোর্চার রাজ্য সভাপতি মহাদেব সরকারও আক্রান্ত হন বলে দাবি করা হয়েছে (R.G. Kar Protest Attack)। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তদন্তে গতি আসে বলে বিজেপির দাবি।
কোন কোন ধারায় মামলা?
পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আঘাত, বেআইনি জমায়েত, দাঙ্গা, খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং অস্ত্র আইনের ২৫ নম্বর ধারাসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে (R.G. Kar Protest Attack)। তদন্তকারীদের মতে, হামলার পিছনে কোনও পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না, ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিল এবং সত্যিই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই কারণেই ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
