Rajganj Candidate Controversy: মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ পর্যায়ে নথিপত্র নিয়ে জটিলতা সামনে আসতেই স্বপ্না বর্মণের প্রার্থীপদ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, আর সেই সুযোগে নতুন মুখ সামনে আসার সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক অন্দরে বাড়ছে উত্তেজনা।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনীতির ময়দানে নতুন চমক—রাজগঞ্জ কেন্দ্রে শাসকদলের প্রার্থী তালিকা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ-কে প্রার্থী করার পরই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছিল উত্তেজনা। কিন্তু মনোনয়ন পর্বের একেবারে শেষ মুহূর্তে উঠে এসেছে নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা, যা ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন—তিনি কি আদৌ প্রার্থী থাকতে পারবেন?
শাসকদলে যোগদানের পর দ্রুতই প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্বপ্না বর্মণকে। তবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ পর্যায়ে এসে জানা যায়, তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে ঠিক নেই।
নির্বাচনে প্রার্থী হতে গেলে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। সেই প্রয়োজনীয় নথি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা না পড়ে, তাহলে প্রার্থীপদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ফলে সোমবার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন—সেই সময়সীমার মধ্যেই সব ঠিকঠাক না হলে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে দলকে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই উঠে আসছে আরেকটি নাম—খগেশ্বর রায়। রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক হিসেবে তার নাম আবারও আলোচনায়। সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি খগেশ্বর রায়কে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে এবং প্রার্থী হওয়ার জন্য তৈরি থাকতে বলেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, স্বপ্না বর্মণকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর খগেশ্বর রায় একসময় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও পরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন, কিন্তু তার অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজগঞ্জ কেন্দ্রটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও এই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া।
বিজেপির পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যেই মন্তব্য করা হয়েছে যে, স্বপ্না বর্মণের বিষয়টি একটি “প্রযুক্তিগত ত্রুটি” হতে পারে এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই সব সিদ্ধান্ত হবে। অন্যদিকে, খগেশ্বর রায় আবারও প্রার্থী হলে তিনি জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী বলে জানা যাচ্ছে। ফলে শেষ মুহূর্তে রাজগঞ্জে প্রার্থী বদল হলে রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। প্না বর্মণ শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে থাকবেন কি না, নাকি নতুন মুখ সামনে আসবে—সেই উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
রাজগঞ্জের এই নাটকীয় পরিস্থিতি প্রমাণ করে, নির্বাচনের আগে রাজনীতির ময়দানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। এখন নজর শুধু একটাই—চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম থাকে।
