মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে নিউটাউনের এক হোটেলে নতুন ‘তৃণমূল’ (Ritabrata Banerjee) কর্মসমিতি গড়ার পর, এবার লড়াই গড়াল দিল্লিতে । বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৯ জন বিধায়ক ও ১ জন প্রাক্তন মন্ত্রীসহ ১০ জনের এক প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন । মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রতেরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন এবং দলের নাম, প্রতীক (জোড়াফুল) ও তহবিলের ওপর অধিকার চান।
আরও পড়ুন- Debraj Chakraborty arrested: শেষরক্ষা হলো না!পুরুলিয়া থেকে পাকড়াও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ
‘ চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট ‘ বলে কটাক্ষ অভিষেককে
অভিষেকের নাম না করে তাঁকে ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ বলে কটাক্ষ করেন ঋতব্রত এবং জানান, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, কাউন্সিলর ও জেলা পরিষদ সদস্য তাঁদের সঙ্গেই আছেন। তাঁদের লড়াই মূলত একটি ‘পারিবারিক’ দলের বিরুদ্ধে ( Ritabrata Banerjee )। অন্য দিকে, ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপকে তীব্র কটাক্ষ করেছে মূল তৃণমূল শিবির। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাড়াটিয়া নিজেকে বাড়ির মালিক দাবি করলেই তা সত্যি হয়ে যায় না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, মাত্র দু’মাস আগেও এই বিধায়কেরা মমতাদি ও অভিষেকের সই করা ফর্মেই হলফনামা দিয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের ‘পক্ষপাত’ নিয়ে সরব তৃণমূল সাংসদরা
পাশাপাশি দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় ও সাগরিকা ঘোষ আর ঋতব্রতদের এই কমিশন-সফরকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ বলে তোপ দাগেন। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনেই নির্বাচন কমিশন কাজ করছে এবং বিজেপিই পিছন থেকে ঋতব্রতদের এই বিদ্রোহ পরিচালনা করছে (Ritabrata Banerjee ) । দলের প্রতিনিধি না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে কমিশন তাঁদের সময় দিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল।
প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে তৃণমূলের এই অন্দরমহলের লড়াই এখন নির্বাচন কমিশনের দরবারে পৌঁছে এক চরম আইনি ও রাজনৈতিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে (Ritabrata Banerjee )। একদিকে ঋতব্রত শিবির দুই-তৃতীয়াংশ জনপ্রতিনিধির সমর্থনকে হাতিয়ার করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণ করতে মরিয়া; অন্যদিকে মমতা শিবির এই বিদ্রোহকে আইনিভাবে অবৈধ এবং বিজেপির মদতপুষ্ট বলে উড়িয়ে দিয়ে দলের ওপর সুপ্রিমো মমতার একচ্ছত্র আধিপত্যই বজায় রাখতে চাইছে। নির্বাচন কমিশন এখন কোন পক্ষকে স্বীকৃতি দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার এই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ।
