বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরের হিন্দু বিদ্যাপীঠ স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্র মোঃ রোহনের (School Student Mysterious Death) মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, টিফিনের সময় খাবার খেতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। পাশাপাশি, ঘটনার সময়কার স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর প্রথমে ছাত্রের পরিবারকে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, (School Student Mysterious Death)রোহন স্কুলের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। তবে কিছুক্ষণ পর সেই বক্তব্য বদলে জানানো হয়, টিফিন খাওয়ার সময় তার গলায় খাবার আটকে যায়। একই ঘটনার ক্ষেত্রে স্কুলের তরফে দুটি ভিন্ন তথ্য সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনা কী, তা জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ কী?
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, টিফিনের সময় খাবার খেতে গিয়েই রোহন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে মৃত ছাত্রের বাবার দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র এতটাই সরল নয়। তাঁর অভিযোগ, স্কুলের চার-পাঁচজন ছাত্র দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ছেলেকে মারধর করত। সেই কারণেই গত সপ্তাহে তাঁকে গার্ডিয়ানস মিটিংয়ে ডাকা হয়েছিল (School Student Mysterious Death)।
শোকাহত অবস্থাতেও তিনি বলেন, স্কুলের বিরুদ্ধে তাঁর সরাসরি কোনও অভিযোগ নেই। তবে তিনি আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, কয়েকজন নির্দিষ্ট ছাত্র তাঁর ছেলেকে নিয়মিত মারধর করে। তাঁর কথায়, “আমার ছেলে যদি দুষ্টু হত, আমি নিজেই বলতাম। কিন্তু আপনারা তো জানেন কারা ওকে মারধর করত!”
এই ঘটনা কেন নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?
বাগুইআটির এই ঘটনার আগে কলকাতার বাঁশদ্রোণীর মহাঋষি বিদ্যামন্দিরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ূষ কুমার নাথের রহস্যমৃত্যু নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল (School Student Mysterious Death)। গত ১৩ মে স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়লেও অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব দেয়নি। উল্টে ষষ্ঠ পিরিয়ড পর্যন্ত তাকে শেষ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়।
পরে স্কুল ছুটির সময় সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে মাথায় গুরুতর চোট লাগে। এরপর ১১ দিন কোমায় থাকার পর গত ২৪ মে মৃত্যু হয় ওই ছাত্রের। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই বাগুইআটির এই ছাত্রমৃত্যু স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা, নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে ফের একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
