রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সমাজবিরোধী ক্রিয়াকলাপ শক্ত হাতে দমন করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল সরকার (Crackdown on Crime)। বিধানসভায় ইতিপূর্বে পাশ হওয়া ‘গুন্ডাদমন’ এবং ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ সংক্রান্ত বিলে অবশেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজভবনের সবুজ সংকেত মেলার পর আগামী সোমবার থেকেই গোটা পশ্চিমবঙ্গে এই কঠোর আইন সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে চলেছে।
দাঙ্গা ও উস্কানি রুখতে জিরো টলারেন্স
এবার থেকে রাজ্যে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা, উস্কানি বা দাঙ্গা ছড়ানোর অপচেষ্টা হলে, অপরাধ ঘটার আগেই সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার বা ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ করার বিশেষ এক্তিয়ার পাবে পুলিশ। নতুন এই আইনের আওতায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চক্র, বেআইনি খনি ও বালি কারবার, জমি দখল এবং সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো সংগঠিত অপরাধের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে (Crackdown on Crime)। জনজীবন বিপর্যস্ত করা বা মাফিয়াগিরি রুখতে প্রশাসন এবার থেকে এই বিশেষ আইনের কঠোরতম ধারাগুলি প্রয়োগ করবে।
যোগীর মডেলে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাজনৈতিক হিংসা বা আন্দোলনের নামে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে, সেই ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ অর্থ এবার অভিযুক্তদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘রেল জ্বালানো, বাস পোড়ানো, পুলিশকে মারধর— এসব এখন অতীত (Crackdown on Crime)।” গুজরাত ও উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে তৈরি ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন।
ভোটব্যাংক ও সস্তা তোষণের রাজনীতিকে দূরে ঠেলে রাজ্যে আইনের শাসন পুনরুত্থানের লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ (Crackdown on Crime)। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের মনে আইনের ভয় জাগাতে এই কঠোর গুন্ডাদমন আইন পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলার ইতিহাসে এক নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করবে।
