রেশনে দেদার দুর্নীতি আর গরিবের চাল-গম লোপাটের এক লজ্জাজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল অশোকনগরের গুমা এলাকায় (Ration Fraud Crackdown)। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে রেশন সামগ্রী কালোবাজারি করার গুরুতর অভিযোগ উঠছিল স্থানীয় রেশন ডিলার শ্যামল সাহার বিরুদ্ধে। অবশেষে ক্ষুব্ধ উপভোক্তাদের সরাসরি নালিশ পেয়েই সশরীরে ময়দানে নামলেন খোদ খাদ্যমন্ত্রী।
দ্রুত অ্যাকশানে খাদ্যমন্ত্রি
আজ সকালে গুমার ওই নির্দিষ্ট রেশন গোডাউনে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই অতর্কিতে হানা দেন মন্ত্রী। সেখানে গিয়ে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। একদিকে যেমন মজুত রেশনে বিপুল গরমিল ও চুরির প্রমাণ মেলে, অন্যদিকে সময়মতো রেশন না পেয়ে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়ে (Ration Fraud Crackdown)। উপভোক্তাদের মুখে বঞ্চনার কাহিনী শুনে আর নিজের ক্ষোভ ধরে রাখতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী।গোডাউন চত্বরেই অভিযুক্ত রেশন ডিলার শ্যামল সাহাকে তীব্র ভাষায় ধমক দিয়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন মন্ত্রী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জনসমক্ষেই কান ধরে ক্ষমা চাইতে শুরু করে অভিযুক্ত ডিলার। কিন্তু গরিবের পেটে লাথি মারা এই ক্ষমা অযোগ্য অপরাধের মুখে মন্ত্রীর মন গলেনি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “গরিবের রেশন নিয়ে কোনো ছিনিমিনি বা দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের ফিরল স্বস্তি
খাদ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর পুলিশ প্রশাসন আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। মন্ত্রীর সামনেই তড়িঘড়ি অভিযুক্ত কালোবাজারি রেশন ডিলার শ্যামল সাহাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় (Ration Fraud Crackdown)। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এই বড়সড় দুর্নীতি চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গুমার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে রেশনের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। খাদ্যমন্ত্রীর এই অতর্কিত হানা এবং অভিযুক্ত ডিলারের আটক হওয়া সমাজের কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে একটি কড়া বার্তা (Ration Fraud Crackdown)। এই তড়িৎ পদক্ষেপ যেমন সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ও আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, তেমনই দুর্নীতিগ্রস্তদের মনেও ভয়ের আবহ তৈরি করেছে।
