রথযাত্রার উৎসবের আবহ মুহূর্তে বদলে গেল আতঙ্কে (Puri Rathyatra 2026 Stampede)। গ্র্যান্ড রোড (বড়া দণ্ড)-এ উপচে পড়া ভক্তসমাগমের মধ্যেই হুড়োহুড়িতে তৈরি হয় পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি। অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির জেরে বহু ভক্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২০ জন শ্বাসকষ্ট-সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় এক ভক্তের মৃত্যুর আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে ওড়িশা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি।
ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ও হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে (Puri Rathyatra 2026 Stampede)। খবর পেয়ে স্পেশ্যাল রেসকিউ ইউনিটের (এসআরইউ) একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। অসুস্থ ভক্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে করে পুরী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের বিশেষ দল মোতায়েন রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনাকে ঘিরে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ সামনে আসেনি।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে তৈরি হল পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি?
রথযাত্রাকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন আগে থেকেই বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল (Puri Rathyatra 2026 Stampede)। ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, জোরদার জরুরি পরিষেবা এবং তীর্থযাত্রীদের জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়। জানা গিয়েছে, পুরীজুড়ে ১৩ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি এনএসজি, আরএএফ, সিআরপিএফ ও বিএসএফ-এর ১৫টি কোম্পানি মোতায়েন ছিল। এছাড়াও ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ওড়িশা পুলিশ উপকূলজুড়ে যৌথ টহল চালাচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রথযাত্রায় নিরাপত্তা কি যথেষ্ট?
রথযাত্রাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে (Puri Rathyatra 2026 Stampede)। কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ৫০০টি সিসিটিভি, ড্রোন, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও কুকুর স্কোয়াড দিয়ে গোটা উৎসবের উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রায় ৩০ লক্ষ ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনায় ভিআইপি প্রবেশে কড়াকড়ি, প্রবীণ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং শহরজুড়ে ১,৭০০টি বায়ো-টয়লেটেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের রথযাত্রায় পদপিষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু ও ৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছিল।
