প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে বুধবার গভীর রাতে এক রুদ্ধদ্বার ও রহস্যময় বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতিন (Midnight Crisis) নবীন এবং বিএল সন্তোষ। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনের ঠিক আগেই এই আকস্মিক বৈঠক রাজনৈতিক মহলে তীব্র আতঙ্ক ও জল্পনা উস্কে দিয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবুও এই চরম গোপনীয়তা এক গভীর সংকটেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় রদবদল নাকি ক্ষোভের বিস্ফোরণ
রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভা এবং দলীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল ঘটাতে চলেছে মোদী সরকার। মন্ত্রিসভা থেকে একাধিক হেভিওয়েট নেতার ডানা ছাঁটা হতে পারে এবং বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে শামিল করার পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু এই রদবদলের (Midnight Crisis) সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক মারাত্মক ঝুঁকি। যদি এই মুহূর্তে কাউকে মন্ত্রিত্ব থেকে ছুড়ে ফেলা হয়, তবে দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠতে পারে, যা সরকারের স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে।
অতীত ধাক্কা থেকে কি শিক্ষা নিল কেন্দ্র?
বিগত এপ্রিল মাসে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে গিয়ে বিরোধীদের প্রবল প্রতিরোধ এবং সংসদের দুই কক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মোদী সরকারকে লজ্জাজনকভাবে পিছু হটতে হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক ধাক্কার ক্ষত (Midnight Crisis) এখনও দগদগে। এবার যাতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং ‘এক দেশ এক ভোট’-এর মতো বিতর্কিত বিল নিয়ে নতুন করে কোনো মুখ পুড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই ভয়েই এখন কাঁপছে শাসক শিবির।
সংসদে বিল নিয়ে কোনো রকম ভোটাভুটিতে যাতে দলের ক্ষুব্ধ সাংসদরা সরকারের বিপক্ষে চলে না যান, সেই ভয়ে মন্ত্রিসভার রদবদল আপাতত স্থগিত রাখার কৌশল নেওয়া হতে পারে। ক্ষোভ সামাল দিতে এবং নিজেদের গদি বাঁচাতে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময় কিনতে চাইছে বিজেপি (Midnight Crisis) নেতৃত্ব। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আপাতত বিরোধীদের আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং দলীয় অন্তর্ঘাত রুখে সংসদে নিজেদের বিল পাস করিয়ে নেওয়াই এখন মোদী সরকারের কাছে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
