মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুরের মাঝে লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ধূলিসাৎ হয়ে গেল (Murshidabad Rail Accident) একটি স্কুল পুলকার। তীব্র গতির নিমতিতা-কাটোয়া লোকালের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ফারহানা বেগম (৭) ও জেসিকা শবনম (৮) নামের দুই স্কুল পড়ুয়ার। পাশাপাশি প্রাণ হারান জামশেদ শেখ (৫০) নামের এক পথচারী। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশু, ইশানুর রহমান (৫) ও তামান্না পারভিনের মৃত্যু হলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চালক-সহ আরও দুই পড়ুয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ গেটম্যানকে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়ায় একটি কারখানার উদ্বোধনে গিয়ে স্পষ্ট (Murshidabad Rail Accident) ভাষায় তিনি জানান, এটি আসলে একটি ভয়াবহ ‘হিউম্যান এরর’ বা মানবিক ভুল। নবদ্বীপ-বালুরঘাট এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পরেই গেটম্যান অপর লাইনের ট্রেনের তোয়াক্কা না করে গেট খুলে দেন, যার ফলেই এই বিপর্যয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফুলের মতো ছোট ছোট ছেলেমেয়ে প্রাণ হারিয়েছে। গেটম্যান যা করেছেন, তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।”
গ্রেপ্তার অভিযুক্ত গেটম্যান, তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের দল
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই বহরমপুর থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি দুর্ঘটনার সময় কোনোভাবে নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ (Murshidabad Rail Accident) পর্যায়ের তদন্তকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। রেলের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই এলাকায় একটি রেল ওভারব্রিজের দাবি থাকলেও জমি জটের কারণে তা আটকে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে (Murshidabad Rail Accident) মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার সব সময় মৃত ও আহতদের পাশে আছে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী পরিস্থিতি দেখভাল করছেন। জমি জটের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই রেলকে ৬১টি প্রকল্পের জন্য জমি দিয়েছে, তাই এই ক্রসিংয়ের জট ছাড়ানোর বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
