পণের দাবিতে স্ত্রীর গায়ে আগুন! দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে এল আদালতের কড়া রায় (Dowry Murder Verdict)। বালুরঘাটের নেপালি পাড়ার বাসিন্দা মনোরঞ্জন সাহাকে স্ত্রী মমনি সিংহ সাহাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বালুরঘাট আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অনিন্দিতা গঙ্গোপাধ্যায় এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের উপর ₹১০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে জরিমানা না দিলে তাঁকে আরও দু’মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন – R.G. KAR Protest Attack : আরজি কর আন্দোলনে হামলা মামলায় গ্রেফতার দুই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর
এই ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে (Dowry Murder Verdict)। ২৯ জুলাই গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মমনি সিংহ সাহাকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। মেয়ের মৃত্যুর পর ৪ আগস্ট বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর বাবা সুনীল সিংহ।
অভিযোগে তিনি জানান, বিয়ের চার বছর ধরে অতিরিক্ত পণের দাবিতে মমনির উপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন তাঁর স্বামী মনোরঞ্জন সাহা (Dowry Murder Verdict)। শেষ পর্যন্ত সেই নির্যাতনের জেরেই স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
১১ বছর পর আদালতের রায়ে কী জানানো হল?
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত মনোরঞ্জন সাহাকে স্ত্রী হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে (Dowry Murder Verdict)। শুক্রবার আদালত তাঁকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ₹১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। আদালত আরও জানায়, জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে অভিযুক্তকে অতিরিক্ত দু’মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দীর্ঘদিনের এই মামলায় রায় ঘোষণার পর আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হল।
তদন্তে কী উঠে এসেছিল এবং কীভাবে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়?
মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বালুরঘাট থানার পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে (Dowry Murder Verdict)। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হয়। পরে আদালতে চার্জশিট জমা পড়ে এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া চলে। সরকারি কৌঁসুলি ঋতব্রত চক্রবর্তী জানান, আদালত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে মনোরঞ্জন সাহাকে স্ত্রী হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং সেই অনুযায়ী সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
