NEET প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court NEET Order)। রাজ্য ও আন্দামান-নিকোবর মিলিয়ে মোট পাঁচটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতায় তিনটি এবং পোর্ট ব্লেয়ারে দুটি আদালত শুধুমাত্র এই ধরনের মামলার শুনানি করবে। হাইকোর্টের নির্দেশ, চার্জশিট জমা পড়ার পর যতটা সম্ভব তিন মাসের মধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে রায় ঘোষণা করতে হবে, যাতে দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
আরও পড়ুন – CM Suvendu’s PA Murder : মুখ্যমন্ত্রীর সহকারীর খুনে বড় সাফল্য সিবিআইয়ের, ধৃত দুই অভিযুক্ত
২৯ জুলাই জারি হওয়া হাইকোর্টের প্রশাসনিক নির্দেশে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলার জন্য পৃথক আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে (Calcutta High Court NEET Order)। পশ্চিমবঙ্গে সিটি সেশনস কোর্টের বেঞ্চ-১ রাজ্য পুলিশের তদন্ত করা মামলা শুনবে, বিশেষ CBI আদালত নং ২ কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত করা মামলার দায়িত্বে থাকবে।
পাশাপাশি অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তদন্ত, (Calcutta High Court NEET Order) বিচারিক অনুসন্ধান, চার্জ গ্রহণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। পোর্ট ব্লেয়ারের দুটি আদালতও আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে দায়ের হওয়া পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার দ্রুত বিচার করবে।
কেন এই বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হল?
পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) আইন, ২০২৪-এর অধীনে দায়ের হওয়া মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য (Calcutta High Court NEET Order)। একাধিক অভিযুক্ত, বিপুল পরিমাণ নথি, ডিজিটাল ফরেনসিক প্রমাণ এবং দীর্ঘ তদন্তের কারণে এই ধরনের মামলায় বিচার প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘায়িত হয়। সেই বিলম্ব কমিয়ে ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে দ্রুত রায় দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ আদালতগুলি গঠন করা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আদালতগুলির মর্যাদা পশ্চিমবঙ্গে চালু থাকা ৮৮টি স্থায়ী ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের সমান নয় (Calcutta High Court NEET Order)। শুধুমাত্র NEET প্রশ্নফাঁস ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা দুর্নীতির মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য এগুলিকে মনোনীত করা হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনের ফলে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের পদমর্যাদা বা ক্যাডারে কোনও পরিবর্তন হবে না।
এই সিদ্ধান্তকে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে?
২০২৪ সালের NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর দেশজুড়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয় এবং CBI-সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা একাধিক চার্জশিট জমা দেয় (Calcutta High Court NEET Order)। সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্নফাঁসের ঘটনা স্বীকার করলেও সর্বভারতীয় পুনঃপরীক্ষার নির্দেশ দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিচারব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
