উত্তর কলকাতার রাজা রামমোহন রায় সরণি বা আমহার্স্ট স্ট্রিটের (Kalipujo 2026) অন্যতম বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী একটা কালীপুজো হলো ফাটাকেষ্টর কালীপুজো। লোকমুখে এটি ফাটাকেষ্টর কালীপুজো হলেও এর পোশাকি নাম ‘নব যুবক সংঘ’। প্রতি বছরের মতো এবারে ও কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালী পুজো হবে।
আরও পড়ুন – Jan Suraaj Party : রাঁচি থেকে পটনা, মাঝপথেই নিখোঁজ! দেবপালিকের রহস্যমৃত্যুতে বাড়ছে জল্পনা
কুমোরটুলি থেকে রাজকীয় ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয় সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের মণ্ডপ পর্যন্ত, দেবী প্রতিমাকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিয়ে আসা হয় মন্ডপে। ঢাক ও শঙ্খধ্বনির আওয়াজে মুখরিত হবে গোটা মণ্ডপ , সেই সাথে রয়েছে হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতি। পুজোর দিন গুলো গোটা রাজপথ জুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। ফাটাকেষ্টর কালীপুজো যেমন ইতিহাসে মোড়া তেমনি বিশেষত্বেও ভরা।
কীভাবে সূচনা হয় এই পুজোর ?
১৯৫৭ সালে কৃষ্ণ চন্দ্র দত্ত (যিনি ওই এলাকায় ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে পরিচিত ছিলেন) তাঁর হাত (Kalipujo 2026)ধরেই এই পুজোর শুভ সূচনাটি হয়। প্রতি বছর এই মণ্ডপে প্রায় সাড়ে ১৬ ফুটের বিশালাকার সনাতনী ডাকের সাজের মা কালীর প্রতিমা মূর্তি নিয়ে আসা হয়। এ বছরও এর ব্যাতিক্রম হয়নি।প্রতিমা শিল্পী মিন্টু পালের স্টুডিওতে মায়ের চক্ষুদান সম্পন্ন হওয়ার পর ধুমধাম করে আগমনী শোভাযাত্রা বের করা হয়। অতীতে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চনের, আরডি বর্মন এর মতো বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই বিখ্যাত পুজো দেখতে এসেছেন।
যুগ যুগ ধরে এই পুজো চলে আসছে, তবু আজও ভক্তদের মনে একই ভক্তির কোনও কমতি নেই। এই প্রতিমা সাক্ষী থেকেছে বহু উত্থান পতনের, সাক্ষী থেকেছে মানুষের সুখ দুঃখ হাসি কান্নার। বহু অভিনেতা অভিনেত্রী এই পুজোর সাক্ষী, অনেক গুলো বছর কেটে গেল মায়ের মহিমা অক্ষুন্ন, বরং আরো বেড়েছে। এই মায়ের কাছে পূজা দিয়ে অনেকের মনষ্কামনা পূরণ হয়েছে ।






