কালীপুজো ও দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে (Green Crackers) এই আলোর উৎসব যেন শব্দবাজির তান্ডবে পরিনত হয়েছে। তৃনমূল আমলে সবুজ বাজির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। ইতিমধ্যেই কালীপুজোর জন্য শহরে বাজি বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। সেগুলি সবুজ বাজি নাকি নিষিদ্ধ শব্দবাজি, তা নিয়ে জল্পনা তৈরী হয়েছে।
ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা নিরি চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সোমবার রাতে দিতে পারে। যতক্ষর্ণ পর্যন্ত না রিপোর্ট এসে পৌঁছয় কোনটা বৈধ ও কোনটাঅবৈধ বাজি তা বলা সম্ভব নয় ৷ব্যবসায়ীদের একাংশের মনে এবিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন উৎসবের মরশুমে কলকাতা ফের সাক্ষী হতে চলেছে শব্দবাজির দাপুটে তান্ডবের।
বাজির মানদন্ডনির্ধারণ পরীক্ষায় কী পাশ করেছে ব্যবসায়ীরা ?
গত শুক্রবার টালা পার্কে বাজি ব্যবসায়ীরা বাজির গুণগত মান ও শব্দমাত্রা (Green Crackers) পরীক্ষার জন্য মোট ১২০টি নমুনা পেশ করেছেন। প্রথম দফারই যাচাইয়ে মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ ১৮টি বাজি বাতিল করেছে ‘নিরি’। বাকি বাজিগুলির মানদন্ডনির্ধারণের জন্য ও পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।
কী বলছেন পশ্চিমবঙ্গ বাজি শিল্প উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক ?
পশ্চিমবঙ্গ বাজি শিল্প উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক (Green Crackers) শুভঙ্কর মান্না এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন‘সোমবার রাত পর্যন্ত আমাদের কাছে প্রশাসনের তরফে নিরির পরীক্ষাগারের কী রিপোর্ট এসেছে, তা জানানো হয়নি। এই অবস্থায় পরিবেশ দপ্তরের নির্দেশ মতো নিরি অনুমোদিত বাজি বিক্রি করবো বলে ঠিক হয়েছে।’ কিন্তু, প্যাকেটের গায়ে নিরির লোগো দেওয়া সেই বাজি যে আসলে সবুজ বাজি, সে কথা জোর দিয়ে বলতে পারছেন না ব্যবসায়ীদের অনেকেই।
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রাক্তন আইনি উপদেষ্টা, পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু বাজি পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে হয়েছে এটাই নয়, কোনটা সবুজ বাজি, সে বিষয়েও প্রশাসনের তরফে কোনও প্রচার চোখে পড়ছে না। ফলে, সবুজ বাজির মোড়কে এবারও যে নিষিদ্ধ শব্দবাজির রমরমা দেখা যাবে, তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।’






