মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। সফরকালে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় কামতাপুরি ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে তাঁর। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। কামতাপুরি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সরব একাধিক সংগঠন।
আরও পড়ুন –Indian Navy Operation: ভারতীয় নৌ-সেনার বিরাট জয়!২০ জন নাবিক-সহ উদ্ধার ইরানি ট্রলার
অন্যদিকে, রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে উদ্যোগী হয়েছেন বিদ্বজ্জনদের একাংশ। এই মর্মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফলে কোন ভাষার স্বীকৃতি মিলবে, তা নিয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরকন্যার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন এবং এই জট কাটাতে কোনও পদক্ষেপ করেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও ভাষাগত মহলের।
কারা কারা থাকছেন বৈঠকে ?
বৈঠকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, শিক্ষামন্ত্রী দীপক (Kamtapuri vs Rajbanshi) বর্মন-সহ একাধিক আধিকারিক উপস্থিত থাকবেন। কামতাপুর পিপলস পার্টি, অল কামতাপুর স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এবং রাজবংশী ভাষার গবেষক ও লেখকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ১৯৬৯ সাল থেকে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। অন্যদিকে, গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, কামতাপুরি ও রাজবংশী একই ভাষা। তাই স্বীকৃতির প্রশ্নে কোন ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত।
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য দীপক ভট্টাচার্যের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এখনও পর্যন্ত হওয়া গবেষণায় ভাষাটিকে রাজবংশী হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও কামতাপুর পিপলস পার্টি (ইউনাইটেড)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায়ের বক্তব্য, ভাষাটির সঠিক নাম কামতাপুরি। এই দাবির সমর্থনে তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত নথিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে ভাষার নাম নিয়ে তৈরি হওয়া মতবিরোধের অবসান ঘটাতে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।






