বড় প্রশাসনিক জটিলতায় বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠ রাতারাতি বদলে গেল কো-এড থেকে বয়েজ, অনিশ্চয়তায় ১২০ ছাত্রীর ভবিষ্যৎ (Kalna Coed School Update)। স্কুলের এই পরিবর্তনের জেরে আটকে গিয়েছে ১২০ জন ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন। আগামী ১৫ জুলাই রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন হওয়ায় সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগ। সমস্যার সমাধানের আশায় স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই)-এর দ্বারস্থ হলে, সেখান থেকে তাঁদের মঙ্গলবার বিকাশ ভবনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত জট কাটেনি, ফলে অনিশ্চয়তাই বাড়ছে।
আরও পড়ুন- Mahua Moitra: এবার ডিম থেরাপির মুখে মহুয়া মৈত্র ! উঠলো চোর স্লোগান
কি বলছেন প্রধান শিক্ষক?
এই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় জানান, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই) দপ্তর থেকে বিষয়টি সরাসরি শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হলে সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারত (Kalna Coed School Update)। কিন্তু তার বদলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিকাশ ভবনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ১৫ জুলাই হওয়ায় প্রতিটি দিনই এখন গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই কারণেই ১২০ ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় আরও জানান, ছাত্রীরা কোনওভাবেই এই বিদ্যালয় ছেড়ে অন্য কোথাও ভর্তি হতে চায় না। দীর্ঘদিনের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্ক এবং পরিচিত শিক্ষার পরিবেশ ছেড়ে যেতে তারা অনিচ্ছুক। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও চরম মানসিক চাপে রয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৫০ বছর ধরে বিদ্যালয়টি ‘কো-এড’ হিসেবেই পরিচিত (Kalna Coed School Update)। কিন্তু আচমকাই শিক্ষা দপ্তরের পোর্টালে সেটিকে ‘বয়েজ’ স্কুল হিসেবে দেখানো হয়, আর তারপর থেকেই শুরু হয়েছে এই জটিলতা।
কি দাবি করছেন অভিবাবক ও ছাত্রীরা?
১৯৭৬ সাল থেকেই উচ্চমাধ্যমিকে ছাত্রীরা এই স্কুলে পড়াশোনা করছে। এত বছর কোনও সমস্যা না হলেও, চলতি বছর শিক্ষা দপ্তরের পোর্টালে আচমকাই বিদ্যালয়টিকে ‘বয়েজ’ স্কুল হিসেবে দেখানো হয় (Kalna Coed School Update)। আর তাতেই আটকে যায় ১২০ ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন। বিদ্যালয়, শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রীরা একসুরে দাবি তুলেছেন প্রশাসনিক ভুলের জন্য যেন পড়ুয়াদের সমস্যায় না পড়তে হয়। দ্রুত জট কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হয়েছে শিক্ষা দপ্তরের কাছে।
